Register Now

Login

Lost Password

Lost your password? Please enter your email address. You will receive a link and will create a new password via email.

Login

Register Now

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipiscing elit.Morbi adipiscing gravdio, sit amet suscipit risus ultrices eu.Fusce viverra neque at purus laoreet consequa.Vivamus vulputate posuere nisl quis consequat.

ডিপফেক টেকনোলজি সম্পর্কে আপনি কী জানেন?

ডিপফেক টেকনোলজি সম্পর্কে আপনি কী জানেন?

ডিপফেক টেকনোলজি সম্পর্কে আপনি কী জানেন?

“ডিপফেক টেকনোলজি”

মিথ্যাকে সত্য বানিয়ে দেওয়া এক অভিশপ্ত প্রযুক্তি

এই প্রযুক্তি আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স এর মাধ্যমে ছবি থেকে চেহারা হুবুহু নকল করতে সক্ষম। দুর্ভাগ্যজনভাবে এই প্রযুক্তি এখন খারাপ লোকদের হাতে। Deep Fake technology দিয়ে এখনো পর্যন্ত যতগুলো কাজ হয়েছে তার ৯৬% ই পর্ণোগ্রাফি। আপনার একটি ছবি ব্যবহার করে তারা কোন নগ্ন মানুষের মুখের সাথে একেবারে নিখুঁত ভাবে প্রতিস্থাপন করতে পারবে । এটি এখনো পর্যন্ত ১ লক্ষের অধিক মেয়ের জীবন ধ্বংস করেছে।

একটি দৃশ্য কল্পনা করুন। অন্যান্য দিনগুলোর মতোই স্বাভাবিকভাবে আপনার দিন কাটছিল। হঠাৎ কাছের একজন মানুষ ইন্টারনেটে আপনাকে একটি ভিডিও পাঠায়। ভিডিওটি চালু করার পর আপনি রীতিমতো আকাশ থেকে পড়লেন। এটি একটি অশ্লীল ভিডিও এবং ভিডিওর মানুষটি আপনি নিজেই। আপনার কাছে এটা একেবারে স্পষ্ট যে, এমন কোনো ভিডিওতেই আপনি নেই। কিন্তু ভিডিওর মানুষটি দেখতে অবিকল আপনার মতো। চোখ, নাক, হাসি, গলার স্বর হুবহু এক। এখন মানুষ কি আপনার কথা বিশ্বাস করতে চাইবে? আপনার আপনজনেরাই বা কীভাবে এর ব্যাখা করবে? খুব দ্রুত এই আপত্তিকর ভিডিও চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। পরিবার ও সমাজে আপনি মুখ দেখাতে পারছেন না। অথচ এখানে আপনার কোনো দোষই নেই।

ফটোশপ ও অন্যান্য কিছু সফটওয়্যার আসার পর থেকে ইচ্ছামতো ও নিখুঁতভাবে নকল ছবি তৈরি করা যায়। তবে নকল ভিডিও বানানো অতটা সহজ ছিল না। ছবিতে একজনের মাথা কেটে অন্য জায়গায় বসানো যতটা সহজ, ভিডিওর ক্ষেত্রে তা ততটা সহজ নয়। কারণ মানুষের গলার আওয়াজ, অভিব্যক্তি, তাকানোর ধরন ইত্যাদি হুবহু নকল করা যেত না। এটি অসম্ভব ছিল একটি নতুন প্রযুক্তি আসার আগ পর্যন্ত।

নকল ভিডিও বানানোর এই প্রযুক্তির নাম ডিপফেক বা ডিপফেক টেকনোলজি। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে যেকোনো মানুষের হুবহু নকল ভিডিও বানানো সম্ভব। মেশিন লার্নিংয়ের প্রয়োগ ঘটানোর মাধ্যমে দিন দিন এই অভিশপ্ত প্রযুক্তিটি আরো নিখুঁতভাবে নকল ভিডিও তৈরি করতে সক্ষম হচ্ছে।

ডিপফেক আসলে কীভাবে কাজ করে?

ডিপফেক বলতে নকল ভিডিও বা অডিওকে বোঝায়। আপাতদৃষ্টিতে তা দেখতে আসল মনে হলেও তা মোটেই আসল নয়। ডিপফেক নামটির মাঝেই এর সংজ্ঞা নিহিত রয়েছে। ডিপ মানে গভীর এবং ফেক মানে নকল। অর্থাৎ ডিপফেক বলতে এমন কিছুকে বোঝায় যা খুবই গভীরভাবে নকল করা হয়েছে। মেশিন লার্নিং হলো ডিপফেক ভিডিও বানানোর প্রধান অস্ত্র। মেশিন লার্নিংয়ের একটি কৌশলের নাম “জেনারেল অ্যাডভারসেরিয়াল নেটওয়ার্ক” (GAN)। এর মাধ্যমে প্রথমে একজন ব্যক্তির বিভিন্ন অভিব্যক্তির হাজারখানেক ছবি সংগ্রহ করা হয়। এরপর সেই ছবিগুলো মেশিন লার্নিংয়ের মাধ্যমে প্রক্রিয়া করে তার মুখের সব ধরনের অভিব্যক্তির একটি সিমুলেশন তৈরি করা যায়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্তরোত্তর উন্নতির ফলে ব্যক্তির গলার আওয়াজও হুবুহু নকল করা সম্ভব। এসব ভিডিও ও অডিও নানাভাবে প্রক্রিয়া করে এমন একটি নকল ভিডিও তৈরি করা হয় যা খালি চোখে শনাক্ত করা অনেক কঠিন।

আমাদের দৃষ্টিসীমার পর্যায়কাল ০.১ সেকেন্ড অর্থাৎ ১০০ মিলি সেকেন্ডের কম সময়ে ঘটে যাওয়া কোনো দৃশ্য আমাদের চোখে বাঁধবে না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি করা ভিডিওগুলোতে নানা ধরনের রূপান্তর ঘটে এর থেকেও কম সময়ে। তাই খালি চোখের পক্ষে আসল-নকলের যাচাই করা সম্ভব হয় না।

ডিপফেক কতটা বিপজ্জনক?

আধুনিক যুগ ইন্টারনেটের যুগ। আরো স্পষ্ট করে বলতে গেলে সোশ্যাল মিডিয়ার যুগ। একটা খবর সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে যত দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছায়, অন্য কোনো মাধ্যম দ্বারা তা সম্ভব না। তাই বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য এটি একটি উৎকৃষ্ট জায়গা। কোনো রকম সত্যতা যাচাই করা ছাড়াই খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। গুজব সংবাদ দ্রুত মানুষের মুখে মুখে পৌঁছে যায়। মানুষের চিন্তাধারাকে নিয়ন্ত্রণ করার এর থেকে সহজ পন্থা আর নেই। আর এখানেই ডিপফেক টেকনোলজির জয়জয়কার।

এভাবে সামাজিক, রাজনৈতিক সকল ক্ষেত্রে এটি ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করতে পারে। একটি সুখী দম্পতির মধ্যকার ভালোবাসা ও বিশ্বাস নিমেষে ভেঙে চুরমার করে দিতে পারে এই প্রযুক্তি। সৃষ্টি করতে পারে রাজনৈতিক অরাজকতা। কোনটি আসল আর কোনটি নকল তা নিয়ে এক বিশাল দ্বন্দ্ব দেখা দিবে মানুষের মনে। আর আপত্তিকর ভিডিও ছড়ানোর আশঙ্কা তো রয়েছেই। অন্তত পোস্ট টি একটি শেয়ার করে প্রিয়জন দের সতর্ক করুন।সম্ভব হলে মেনশন করবেন। আরেকটি কথা মনে রাখবেন সময় শেষ হউয়ার পরে যেনো নিজেকেই নিজে না বলতে হয় “ভাবিয়া করনি কাজ করিয়া ভাবছি” তখন আর কিছুই করার থাকবেনা!

বিঃদ্রঃ দুঃখের বিষয় এই যে এই প্রযুক্তি টি এখন হাতের নাগালে। তাই আপনজন কিংবা মিডিয়ায় কাজ করা সবাই খারাপ এইটা মাথা থেকে ঝেরে ফেলুন। অপ্রিয়তা কিংবা শত্রুতা বসত আপনার নিকটের কেউ ও চাইলে এই প্রযুক্তির অপব্যবহার করতে পারে। তাই সর্বাপরি সতর্ক থাকুন।

Copyright: Internet Source

Leave a reply

By commenting, you agree to the Terms of Service and Privacy Policy.